মার্কিন নির্বাচনে সবেচেয়ে বড় বিজয়ী গাঁজা!

%e0%a7%a6%e0%a7%abএশিয়ানবার্তা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে কেবল ট্রাম্প আর হিলারিই লড়েননি, লড়েছে গাঁজাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিজয়ী আসলে গাঁজাই। নির্বাচনে আমেরিকানরা প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি নিষিদ্ধ এই দ্রব্যটির বৈধতা প্রশ্নেও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে।

ন্যাভাদা, ক্যালিফোর্নিয়া এবং ম্যাসাচুসেটস-এর ভোটাররা ৮ নভেম্বরের ভোটে গাঁজাকে বৈধ করার রায় দিয়েছে। তবে, ফ্লোরিডা, আরকানসাস এবং নর্থ ড্যাকোটার ভোটাররা গাঁজাকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে বৈধতার রায় দিয়েছে। মন্টানা এবং মাইনেও একই অবস্থা।

বুধবার ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট জানায়, নির্বাচনে যেসব অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, সে সবের প্রায় সবগুলোতেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে গাঁজাকে বৈধ করার রায় দিয়েছে।

এ অবস্থায় আমেরিকায় যারা কোন আঘাতের পরবর্তী পর্যায়ে আছে কিংবা দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথা এবং মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত তারা স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলছে।

গাঁজা বৈধকরণ প্রশ্নে ড্রাগ পলিসি এলায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ইথান ন্যাডালমান বলেন, ‘শ্যালডন এডেলসনের টাকা এবং ক্ষমতা এত যথেষ্ট নয় যে, এর মাধ্যমে তিনি ন্যাভাদার মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখবেন।’

ইথান তার বক্তব্যে রিপাবলিকানদের সুপার-ডোনারদের নির্দেশ করেন যারা গাঁজার বৈধতা ঠেকাতে তিন মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন করেছিলো।

গত অক্টোবরে ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘গাঁজার বৈধতা ইস্যুটি কোন একটি অঙ্গরাজ্যের ইস্যু হোক।’ এসময় তিনি স্বাস্থ্যখাতে গাঁজার বৈধতার ব্যাপারটিকে সমর্থন করেন না বলে জানান। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এটিকে আমাদের বিদেয় করা উচিৎ।’

ইথান বলেন, ‘নির্বচনী দিনে সারা আমেরিকাতেই গাঁজার বিজয় হয়েছে। বলতেই হয়, অন্য কোন বিষয়ে এ বছরের কোন নির্বাচনেরই এত জনসমর্থন কেউ আদায় করতে পারেনি।’

ন্যাভাদায় প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়ষ্ক ব্যাক্তি এক আউন্স পরিমাণ গাঁজা তার সঙ্গে বহন করতে পারবেন এবং গাঁজার দোকান থেকে কারো বাড়ি ২৫ মাইল দূরে হলে তিনি বাড়িতে ৬টি গাঁজা গাছ রোপন করতে পারবেন।

গাঁজাকে বৈধ করার জন্য অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোও দীর্ঘ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলো। ২০১২ সালে কলোরাডো এবং ওয়াশিংটনই প্রথম দুই অঙ্গরাজ্য, যেখানে আইনগতভাবেই গাঁজা উৎপাদন, বিতরণ ও বিক্রির বৈধতা দেওয়া হয়। পরে ২০১৪ সালে আলাস্কা এবং ওরেগনও এটিকে অনুসরণ করে। পর্যায়ক্রমে ওয়াশিংটন ডিসিও নাগরিকদের বাড়িতে গাঁজা চাষে অনুমতি দেয়।

গত অক্টোবরে সমগ্র আমেরিকায় এক জরিপ পরিচালনা করে ‘গ্যালাপ’ জানিয়েছিলো, দেশটির ৬০ শতাংশ লোকই গাঁজা বৈধ করার পক্ষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.