লাভের আশায় রাজশাহীর চামড়া ব্যবসায়ীরা


মঈন উদ্দীন: রাজশাহীতে এবার কোরবানির চামড়া বিক্রি হয়েছে পানির দরে। অনেক
জায়গায় ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০-১৫ টাকা দরে। কোথাও আবার বিক্রি
না হওয়ায় চামড়া দিয়ে দিয়েছেন মসজিদ , মাদ্রাসায়। কেউবা ফেলে দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীরা এখন ব্যস্ত চামড়া সংরক্ষণের কাজে। এবারে তারা লাভের আশা করছেন।
চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরেই খুব একটা সুবিধা করতে পারেন
নি তারা। চলতি মৌসুমের শুরুতেও ট্যানারী মালিকরা আগের বকেয়া পাওনাও
দেয়নি। এমনকি ব্যাংকও লোন দিতে সমস্যা করেছে। তারপরও তারা কিনেছে চামড়া।
শত আশা নিয়ে এবার চামড়ার দাম, লবন ও চামড়ার চাহিদা নিয়ে বেশ আশাবাদি
তারা।
রাজশাহীতে এবার গত বছরের তুলনায় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম ২০-২৯ শতাংশ
কমিয়ে নির্ধারণ করেছিল সরকার। সেই দামও পাওয়া যায়নি চামড়া বিক্রির সময়।
ছাগলের চামড়া রাজশাহীতে ৫ থেকে ৩০ এবং গরুর চামড়া ১০০ থেকে সর্বোচ্চ

৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। রাজশাহীতে কোরবানির মৌসুমে পশুর চামড়া নিয়ে
এমন পরিস্থিতি আর কখনও তৈরি হয়নি।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের হিসাব মতে, কোরবানির আগে জেলায় গরু ও
মহিষ ছিল প্রায় এক লাখ আর ছাগল ছিল দুই লাখ ২৮ হাজার। অন্যান্য পশু ছিল ৪২
হাজার। সব মিলে কোরবানি জন্য পশু মজুদ ছিল তিন লাখ ৭০ হাজার। জেলায় দুই লাখ
৬০ হাজার পশু কোরবানি হওয়ার কথা। সেই হিসাবে আড়াই লাখ চামড়া থাকার কথা।
রাজশাহী চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি আসাদুজ্জামান মাসুদ বলেন,
ট্যানারি মালিকদের কাছে আমাদের বিপুল বকেয়া টাকা পড়ে আছে। করোনার
কারণে হাতেও টাকা নেই। সরকার কমিয়ে দাম নির্ধারণ করে দিলেও টাকার অভাবে
তারা চামড়া কিনতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.