কোটিপতি হওয়ার টোটকা চিকিৎসা


এফ শাহজাহান : এখন কোটিপতি হওয়ার জন্য রাত জেগে শিব খেরা পড়তে হয় না। ডেল কার্নেগীর যুগ তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।ব্রায়ান ট্রেসি,ক্যারল এস ডিউকের লিটারেচার পড়ারও দরকার নেই।
আপনি সাকসেস হতে চান এটাই তো কথা ?
সাকসেস হওয়ার জন্য এখন আর কষ্ট করে প্রেসিডেন্ট এপিজে আব্দুল কালামের স্লিপলেস ড্রিম দেখারও দরকার নেই।
দুনিয়াতে সাকসেস টাকসেস,যেটাই বলেন না কেনো। আপনি নিশ্চয় জানেন যে, টাকাই বড় কথা। টাকাই আসল।
সেই টাকার জন্য আপনাকে যা যা করতে হবে, আমি তাই তাই আপনাকে শিখিয়ে দেব।
তাই বলে সাকসেসের জন্য আপনাকেও আয়মান সাদিকের প্রেসক্রিপশন হজম করতে হবে তাও নয়।
এখন সাকসেস হতে নিদেনপক্ষে দুই চারটা সোলেমান শুকুন টাইপের কায়দা কানুন জানলেই এনাফ।

আপনার লেখাপড়া যোগ্যতা এসবের কথা ভাবছেন?
আরে রাখেন তো লেখাপড়া।
রহিম ভরসা করিম ভরসার নাম শুনেছেন ?
কয় ক্লাস পড়েছেন তারা ? জানেন তো, হাজার হাজার এমবিএ সিএ আইসিএ ওয়ালারা তাদেরকে স্যার বলে নিজেদের পেট চালিয়েছে।
সাফল্যের আসল কথাই হচ্ছে উদ্যোক্তা হওয়া।
আমি আপনাকে সেই দিকেই নিয়ে যাচ্ছি।

আসেন,এবার লাইনে আসেন।
এখন চলছে পোস্ট ট্রুথ ইরা বা সত্য উত্তর যুগ।
মিথ্যার বেশাতি এই যুগে টিকে থাকার একমাত্র হাতিয়ার।
ঠিক টিকে থাকা নয়,বলা চলে সাকসেস হওয়ার হাতিয়ার।
অবলীলায় মিথ্যা বলতে পারলে আপনাকে আর ঠেকায় কে ?
এখন ‘ডিপফেক’ এর জামানা। ফেসবুক ইউটিউবে ফেক পাফরমেন্স শো করে রাতারাতি হিরো আলম বনে যাওয়া এখন ওয়ান-টু’র ব্যাপার।
ইউটিউব চ্যানেলকে “টেলিভিশন” নাম দিয়ে নিজের মার্কেটভ্যালু বাড়ানোর কাজও এখন বেশ জনপ্রিয়। সাফল্যের একটাই শর্ত-ডীপফেক।
ডীপফেক মানে গভীর মিথ্যা।
এই কথাটার সাদামাটা বাংলা হচ্ছে, নিঁখুত মিথ্যার বেসাতি।
এই ডীপফেক এর যুগে অনলাইনের টেকনিক্যাল নলেজ কাজে লাগিয়ে অনেকেই অনেক বড় প্রতারনার ফাঁদ পেতে বেশ ভালোই আয় রোজগার করে খাচ্ছেন।
এই পথে পা বাড়িয়ে সাকসেস হওয়ার জন্য একটাই যোগ্যতা লাগে। সেই যোগ্যতার নাম “সত্যের মত করে মিথ্যা” বলতে পারার যোগ্যতা।
সেই ডীপফেকের যুগে আপনি যদি সত্যকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চান তো থাকতে পারেন। তবে ঠাটবাটে চলতে পারবেন না,এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।
কোনমতে অর্ধহারে অনাহারে বেঁচে থাকাটাই আপনার জন্য কঠিন।
তাহলে কী করবেন ?
আসুন,আমি আপনাকে কোটিপতি হওয়ার সহজ পথ বাতলে দিচ্ছি।
আমি আপনাকে তরুণ উদ্যোক্তা বানিয়ে দিব। টাকা লাগবে ?
নো প্রোবলেম । মানি ইজ নো প্রোবলেম।
টাকাও দেব।

এজন্য আপনাকে ফান্ড ক্রিয়েটিং টেকনিক শিখতে হবে। সেটাও আপনসাকে শেখাবো।
মহা মূল্যবান সফিস্টিকেটেড আইডিয়া দেওয়া হবে।
টেকনিক্যাল এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে মস্তবড় ব্যবসায়ী বানিয়ে দেব । এবং রাতরাতি উদ্যোক্তা হয়ে আপনি কোটিপতি বনে যাবেন।
এজন্য আপনাকে মাত্র এক হাজার টাকা খরচ করতে হবে। সেটা আপনার জন্যই। এই টাকার বিনিময়ে একটা ফাইভস্টার হোটেলে আপনাকে তরুন উদ্যোক্তা সম্মেলনের ভিআইপি ডেলিগেট বানানো হবে।
সেই কনফারেন্সে নামি দামি সেলিব্রেটি বিজনেস ম্যাগনেটরা থাকবেন। দেশ কাঁপানো মোটিভেশনাল স্পিকাররা থাকবেন।
এখানে একবার যেতে পারলেই আপনার যা কিছু লাগবে তার সবকিছু ম্যানেজ করা ওয়ার-টুর ব্যাপার।
আমাকে বিশ্বাস হচ্ছে না। শতশত ইঞ্জিনিয়ার আমার পিছে ঘোরে । আমি মেগা প্রজেক্টের মেগা ডাইরেক্টর। । আমি অনেক বড়বড় কোম্পানীর টেকপার্টনার । বিজনেস টাইকুন চিনেন ? আমি হচ্ছি বিজনেস ম্যাগনেটদের বস। যাকে বলে বিজনেস টাইকুন।
তাহলে চলুন মমইন টমইনে ঘুরে আসি। আপনি আমার সঙ্গে থাকলে,ইচ্ছা করলে লোকাল ফাইভস্টার হোটেলের আলো ঝলমল ডায়াসে উঠে ভোকাল মোটিভেশনাল স্পিকারও হতে পারবেন।
টেলিফিশনের ক্যামেরায় [ ইউটিউব চ্যানেলের] ভিডিও করে অনলাইনে ছেড়ে আপনার মার্কেট ভ্যালু তৈরি করে দেব আমরাই । আপনি খালি ঠান্ডা মাথায় মার্কেটিং করবেন।
আমার কথায় রাজি হওয়া মানে,আজ থেকে আপনি তরুন উদ্যোক্তাদের একজন।
কীভাবে বিলগেটস,ওয়ারেন বাফেট,জ্যাক মা, জেফ বেজোস,স্টিভ জবস,মার্ক জুকারবার্গ কিংবা টেসলার সিইও এলোন মাস্ক অথবা গুগলের সুন্দর পিচাই হবেন,সেটা আমরাই শিখিয়ে দেব।
ইয়ং অন্ট্রপ্রন্যর কনফারেন্স ,যুব উদ্যোক্তা সম্মেলনে ঢাকা ঢুকা থেকে হাইপ্রোফাইল গেস্টফেস্ট আসবে । তাদের সঙ্গে এট্টুআট্টু ফটোফাটা তুলবেন, সেলফি মারবেন এবং ইউটিউবে ভিডিও ছেড়ে পাবলিসিটি করবেন। লাখ লাখ ভিউ বাড়ানোর টেকনিক আমরাই শিখিয়ে দেব।
এরপরই আপনি তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করে দিবেন।
বিশ্বাস হচ্ছে না। আরে আমাকে তো এখনো চিনেন নি। এই দেখেন আমি বারো মাসে তেরো মেলা করি। শিক্ষামেলা,ভিক্ষামেলা, হাঁড়িমেলা,বাড়িমেলা। এইসব হরেক রকমের মেলা ফেলার উদ্বোধনে দ্যাখেন, ডিসি এসপির পাশে আমাকেই দেখা যাচ্ছে।
বিশ্বাস না হয় আমার প্রোফাইল ঘাঁটেন। টিভিতে [ইউটিউবে] আমার ঠগ শো দেখেন।
এবার বিশ্বাস হচ্ছে তো।
তাহলে এক হাজার টাকা দিয়ে টিকিট নেন।
ফাইভস্টার হোটেল তরুন উদ্যোক্তো সম্মেলনে যোগেদেওয়ার প্রস্তুতি নিন।
সম্মেলন ফিনিশ করলেই আপনি উদ্যোক্তা হবেন।
তারপর ব্যবসা শুরু । আপনার ডীপফেকের যোগ্যতা কাজে লাগাতে হবে এখানেই ।
বাঁকীতে মাল কিনবেন আর নগদে বেচবেন। বাঁকীতে কেনা,নগদে বেচা। কেনা আর বেচা,কেনা আর বেচা।
মাত্র মাস খানেক পরই আপনার হাতে কোটি টাকা চলে আসবে।
এবার বাঁকী পাওনাদারদের ফাঁকি দেওয়ার পালা।
আবার সেই ডীপফেক।
এবার আর লোকালি নয়। এবার আপনি চম্পট দিবেন ঢাকায় ।
আপনি এবার ঢাকায় কোটি কোটি টাকা বিনিযোগ করবেন।
আপনাকে আর লোকাল পাবলিক ধরে কেমনি ?

এবার মোবাইলের সিম পাল্টাবেন।
আপনিতো এখন কোটিপতি।
কী ? কোটিপতি হলেন তো ?
আর কী চাই ?
গাড়ি …. বাড়ি,..
আরো কিছু ?
এবার আমার টাকাটা দ্যান।
সেই একহাজার টাকা।
মাত্র একহাজার।
দ্যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.