করোনা মহামারির দু:সময়ে সুস্থ থাকার সবচেয়ে সহজ উপায়

হাকীম এফ শাহজাহান : বিশ্বব্যাপি করোনা মহামারির এই দু:সময়ে নিজেকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে বড় উপায় হচ্ছে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা ।


শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ওজন কমানোর মাধ্যমে নিজেকে ঝরঝরে তরতাজা রাখা।


নিজেকে ঝরঝরে তরতাজা রাখার একমাত্র কার্যকর উপায় হচ্ছে খাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমে শারিরিক ফিটনেস ঠিক রাখা । এরপর ডায়াবেটিস,উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ-ব্যাধি নিয়ন্ত্রনে রাখা।


সেটার জন্য সর্বপ্রথম সবচেয়ে জরুরী বিষয় হচ্ছে ডায়েটিং তথা পরিমিত স্বাস্থসন্মত আহার করা । এর পরের জরুরী বিষয় হচ্ছে সাধ্যমত নিয়মিত শরীর চর্চা করা।
মেদ ঝরিয়ে ওজন কমিয়ে শরীরকে ঝরঝরে তরতাজা রোগমুক্ত করার সবচেয়ে সহজ এবং সস্তা উপায় হচ্ছে পেটে ক্ষুধা রেখেই খাওয়া শেষ করা।


সহজ কথায় আপনি প্রতিদিন যে পরিমান খেয়ে অভ্যস্ত তারচেয়ে অর্ধৈক পরিমান খাবার খেতে অভ্যস্ত হোন।


একমাসেই ফলাফল দেখে বিষ্মিত হবেন।
ধনী-গরীব সবার জন্য শরীরের ওজন কমানোর এরচেয়ে সস্তা এবং সহজ পথ পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত কেউ উদ্ভাবন করতে পারে নি। এটা ইসলামের সিস্টেম। এর উদ্ভাবক বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা:)।


এরফলে আপনার শরীর স্বাস্থ্য যেমন মজবুত হবে,তেমনি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে এবং সেই সঙ্গে আপনার খাদ্য খরচ অর্ধেক সাশ্রয় হবে।


অনলাইন মিডিয়ার এই যুগে ডায়েটিং নিয়ে অজস্র পথ ও পদ্ধতি দেখে আপনি নিশ্চিত দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন। কোনটা মেনে চলবেন আর কোনটা এড়িয়ে যাবেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে ।


এসব ডায়েটিংয়ের ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমও আবার বেশ সফিস্টিকেটেড এবং অনেক ব্যায়বহুল। একারনে সাধ থাকলেও সবার সাধ্য নেই সেগুলো জোগাড় করার।
এখন অনেকেই কিটো করছেন। কেউ অটো ফেজি করছেন । কেউ ড্রাই ফাস্টিং,ওয়াটার ফিাস্টিংয়েও বেশ সুফল পাচ্ছেন ।


এগুলো এখন বেশ জনপ্রিয় সিস্টেম হলেও তা সবার জন্য ম্যানেজ করা এবং নিয়মিত চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না বাস্তবসন্মত কারণে ।


যখনই আপনি দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেড,ক্ষতিকর ফ্যাট, প্রোটিন, সুগার এসব মাইনাস করবেন, তখনই আপনার বেশি বেশি প্রয়োজন পড়বে উপকারী ফ্যাট, প্রোটিন এবং মিনারেলস।


এজন্য প্রতিদিন আপনাকে আ্যাপল সিডার ভিনেগার উইথ মাদার, ফ্রেশ প্রো ব্যাকটেরিয়াল,খাঁটি ঘি, খাঁটি মাখন, খাঁটি সরিষার তেল,এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল,এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল, পীনাট,কাজু বাদাম, ৪/৫টা দেশি মুরগীর ডিম, বিষমুক্ত সতেজ সবুজ শাকসবজি, সামুদ্রিক মাছ ; এসব জোগাড় করতে হবে।
এসব হাই প্রোফাইল গুড ফ্যাট আর সুপার প্রোটিন,মিনারেলস আর দামি অর্গানিক ভেজটেবল প্রতিদিন সবার পক্ষে জোগাড় করা সত্যিই কঠিন।


আপনার অনেক টাকা থাকলেও বাজারে এই মুল্যবান জিনিসগুলো আপনি ভেজালমুক্ত কিনতে পাবেন না। আর এগুলো ভেজালমুক্ত না হলে আপনার তেমন কোন কাজে আসবে না। উল্টা আপনি শারিরিকভাবে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তাহলে কী হাল ছেড়ে দিবেন ?


না । আপনার জন্য অনেক সহজ এবং সস্তা উপায় আছে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর এবং ধনী-গরীব সবার জন্য সহজ সিস্টেম বাতলে দিয়েছে ইসলাম। ইসলামের মেডিকেল সিস্টেম কেয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর সব সময় ধনী-গরীব সব মানুষের জন্য সমান কার্যকর।


ইসলামী বিধান মেনে আপনি যদি খাওয়ার সময় পেটে অল্প ক্ষুধা রেখেই খাওয়া শেষ করেন, তাহলে উপরের ব্যায়বহুল এবং কষ্টসাধ্য সবগুলো সিস্টেমেরই নিশ্চিত শতভাগ সুফল পাবেন ।


এজন্য আপনার সারাদিন অনাহারে থাকার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি তিন বেলাই খেয়ে অভ্যস্ত হোন,তাহলে প্রতি বেলা খাবার সময় পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খাবার এবং এক ভাগ পানি দিয়ে পুরণ করুন এবং এক ভাগ খালি রেখে খাওয়া শেষ করুন। তাহলেই শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ওজন কমানোর মাধ্যমে নিজেকে ঝরঝরে তরতাজা রাখার যাদুকরী উপায়টি আপনি পেয়ে যাবেন।
প্রথম মাসেই আপনার কমপক্ষে চার কেজি ওজন কমবে।

এভাবে তিন মাস কন্টিনিউ করলে আপনার কমপক্ষে ১২ থেকে ১৪ কেজি ওজন কমবে এবং আপনি আগের যেকোন সময়ের তুলনায় নিজেকে তরতাজা এবং শক্তিশালী হিসেবে দেখতে পাবেন।
এরপর মাঝে মধ্যেই রোজা রাখুন। প্রতিদিন নয়। সপ্তাহে ২দিন,৩ দিন অথবা একদিন পর পর রোজা রাখুন। মুসলিম হলে প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুন।


প্রতিদিন রাতের প্রথম প্রহরেই খাবার শেষ করে হালকা হাঁটা-চলা করে ৯টা,১০টার মধ্যেই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন।


সকালে ফজরের নামাজ পড়ে সাধ্যমত শরীর চর্চা করুন।
এভাবে চললে আপনি ডায়াবেটিস,উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ-ব্যাধিও নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবেন।


এরফলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে এবং করোনার মত মহামারি এবং অন্যান্য সংক্রামক ব্যাধি থেকেও রক্ষা পাবেন ইনশাআল্লাহ ।
সুস্বাস্থ্য রক্ষার এসব নিয়ম কানুন আমাদের পরম করুনাময় দয়াময় মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে কেয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর সব মানুষের সুস্থতার জন্য বাতলে দেওয়া হয়েছে ।


মানবতার মুক্তিদূত, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) মেডিকেল সাইন্সের এসব মৌলিক নিয়ম কানুন নিজে পালন করেছেন এবং বিশ্বের সকল মানুষের চির কর‌্যাণের জন্য শিখিয়ে দিয়েছেন।


মহান আল্লাহর নির্দেশে রাসুল (সা:) এর শেখানো সুস্বাস্থ্য রক্ষার এরকম বিজ্ঞান ভিত্তিক,সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি পৃথিবীতে আগে কখনোই ছিলনা এবং কেয়ামত পর্যন্ত কখনো আসবেও না।


ইসলামের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন । আপনার হায়াত পর্যন্ত সুস্থ থাকবেন ইনশাআল্লাহ ।
সুস্বাস্থ্যের সুখবর

লেখক : হাকীম এফ শাহজাহান

ডিইউএমএস

হামদর্দ ইউনানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল,বগুড়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.