1. aknannu1964@gmail.com : AK Nannu : AK Nannu
  2. admin@asianbarta24.com : arifulweb :
  3. angelhome191@gmail.com : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  4. info@asianbarta24.com : Dev Team : Dev Team
বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০১:৫৮ অপরাহ্ন

ব্যাংকর চালান জালিয়াতির অভিযোগে আইনজীবী কারাগারে

  • আপডেট করা হয়েছে : মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৩০ বার দেখা হয়েছে
জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
সোনালী ব্যাংকর চালান জালিয়াতি করে আসামীক জামিন করার অভিযোগে আনিছুর রহমান (৪৭) নামে এক আইনজীবীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিশীত রঞ্জন বিশ্বাস। এ ঘটনায় অন্য আইনজীবীরা আদালত এজলাসের সামনে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের দুটি ইউনিট এসে ওই আসামিকে কারাগারে নিয়ে যায়।

কারাগারে প্রেরিত আনিছুর রহমান জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম পারুলিয়া গ্রামের মোকলেছুর রহমানের ছেলে ও জয়পুরহাট আদালতের আইনজীবী।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার হিচমি এলাকার বিজলি ফিড মিলের স্বত্ত্বাধিকারী আমানুল্লাহ মেসার্স ফিরোজা ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী সোহেল রানার নিকট থেকে ব্যবসায়িক আর্থিক লেনদেন ছিলো। ২০১৭ সালে আমানুল্লাহকে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক জয়পুরহাট শাখার ২৮ লাখ ১৬ হাজার টাকার একটি চেক দেন সোহেল রানা।  আমানুল্লাহ ওই চেক ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর ইসলামী ব্যাংক জয়পুরহাট শাখায় নিজ হিসাব নম্বরে জমা দিলে সোহেল রানার মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হিসাব নম্বরে উল্লিখিত পরিমাণ টাকা জমা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। ওই বছরের ৬ নভেম্বর সোহেল রানাকে টাকা পরিশোধের ৩০ দিন সময় বেঁধে দিয়ে একটা লিগ্যাল নোটিশ পাঠায় আমানুল্লাহ। ওই নোটিশ প্রাপ্তির পরও সোহেল রানা টাকা পরিশোধ না করায় ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে আদালতে ২৮ লাখ ১৬ হাজার টাকার চেক প্রত্যাখ্যান মামলা করেন আমানুল্লাহ।

চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় দাবির অর্ধেক টাকা জমা দিয়ে জামিন আবেদন করতে হয়। সেই অনুনুযায়ী গত বছরের ২৮ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের ১৪ লাখ ৮ হাজার টাকার একটি চালান আসামির জামিন আবেদনের সঙ্গে আদালতে জমা দেওয়া হয়। এরপর আদালত আসামি সোহেল রানার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন আনিছুর রহমান। চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি বাদী তার আইনজীবী গোলাম মোকারম চৌধুরীকে জানান চালানমূলে ব্যাংকে কোন টাকা জমা হয়নি। এরপর বাদীর আইনজীবী ট্রেজারিতে খোঁজ নিয়ে চালান জালিয়াতির সত্যতা পান। তিনি বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আনিছুর রহমানকেও বিষয়টি জানান। তিনিও খোঁজ নিয়ে ব্যাংক চালান জালিয়াতির সত্যতা পেয়ে নিজে বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে উপ-পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম সেটি তদন্ত করেন। তদন্তে আইনজীবী আনিসুর রহমান,  মহুরী আজিজার রহমান, কারাগারের কারারক্ষী আমিনুল ইসলাম,  দালাক মাহফুজ ইসলাম নসু বাবু, আসামি সোহেল রানার বড় ভাই আবদুল করিম, বোন পারুল বেগমসহ ৬ জনের জড়িত থাকার প্রমান পায়।

এ ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে চলতি বছরের ৮ নভেম্বর জয়পুরহাট সদর থানায় আরেকটি মামলা করেন। এ মামলায় আগের মামলার বাদী আইনজীবী আনিছুর রহমানসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। তবে আগের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আবদুল করিমকে মামলার আসামি করা হয়নি।

ওই মামলার আসামি আইনজীবী আনিছুর রহমান চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আদালতে থাকা আইনজীবীরা এর প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে এসে আসামি আনিছুর রহমানকে কারাগারে নিয়ে যায়।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহনুর রহমানের দাবি আনিছুর রহমানকে অসত্য ও সাজানো মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আইনজীবী আনিছুর রহমান নিজেই বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিলেন। সেই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। একই ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ বাদী হয়ে তাকেসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আবারো মামলা করেছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। আজকে তার জামিন আবেদন করা হয়েছিল। আদালত তা নামঞ্জুর করেছেন। অসত্য ও সাজানো মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেছি।

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আবদুল লতিফ খান বলেন, এক আইনজীবীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়ায় আদালতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে আসামিকে কারাগারে নিয়ে গেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন বলেন, ব্যাংকের চালান জালিয়াতির ঘটনার সঙ্গে আইনজীবীর আনিছুর রহমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁকে মামলার আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার নূরে আলম বলেন, ফিড ব্যবসায়ী সোহেল রানার নামে আদালতে একটি চেকের মামলায় আইনজীবী আনিসুর রহমান চালান জালিয়াতির মাধ্যমে আয়ামিকে জামিন করান। পরে সন্দেহ হলে আদালত মামলাটি অধিক তদন্তের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে আদেশ দেন। তদন্তে ৬ জনের সম্পৃক্ততা পেয়ে তাদের বিরুদ্ধে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা দেয়া হয়। অভিযুক্ত আইনজীবী আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে ছিলেন। দেশে এসে আদালতে জামিন নিতে গেলে তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায় আদালত।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

এরকম আরও বার্তা
স্বত্ব © ২০১৫-২০২২ এশিয়ান বার্তা  

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft