1. aknannu1964@gmail.com : AK Nannu : AK Nannu
  2. admin@asianbarta24.com : arifulweb :
  3. angelhome191@gmail.com : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  4. info@asianbarta24.com : Dev Team : Dev Team
বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৪:০৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
ফলোআপ নিউজ:….সিরাজগঞ্জে ১৩ দিনে ১১ থানায় আ’লীগের মামলার জালে বিএনপির ১৬৭৪ নেতাকর্মী : গ্রেপ্তার-৭ মির্জাপুরে অবৈধ ৯ টি ইটভাটাকে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা জরিমানা ১ ডিসেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিন : বাংলাদেশ ন্যাপ  ফুলবাড়ীতে স্কাউটস ভবন নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন পুলিশি বাধাঁয় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে নেতা-কর্মী পৌছালেন সমাবেশস্থলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আস্থাহীনতাই খালাসী নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনুপস্থিতির কারণ ১০ দফা দাবিতে রাজশাহী বিভাগে পরিবহন ধর্মঘট শুরু রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে যেতে পথে পথে বাধা দুই দিন আগেই নেতাকর্মীদের জনস্রোত রাজশাহীতে শীত ‍উপেক্ষা করে খোলা মাঠে রাত কাটালো বিএনপির নেতাকর্মীরা সিরাজগঞ্জে ১৩ দিনে ১১ থানায় আ’লীগের মামলার জালে বিএনপির ১৬৭৪ নেতাকর্মী : গ্রেপ্তার-৭

মধুপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের গোষ্ঠ অষ্টমী উৎসব পালিত

  • আপডেট করা হয়েছে : বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০২২
  • ৮২ বার দেখা হয়েছে

জাহিদুল কবির প্রতিনিধি মধুপুর টাঙ্গাইল;
মধুপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী গোষ্ঠ অষ্টমীকে ঘিরে গোষ্ঠ পূজা, গো-গ্রাস দান, ধর্মীয় শোভাযাত্রা, সন্ধ্যায় মন্দিরে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং রাতে শ্রীকৃষ্ণ ও রুক্কিনীর মিলন অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। বিচিত্র সংস্কৃতি চারণ ভূমি ও ব্রিটিশ বিরোধী ফকির সন্ন্যাসীদের বিদ্রোহের প্রতিফলন মধুপুরের অন্যতম এ গোষ্ঠ অষ্টমী উৎসব। অতীতে এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে মাসব্যাপি গোষ্ঠ মেলার আয়োজনে মধুপুর মদন গোপাল আঙ্গিনা থাকতো নানান বয়সী মানুষের উপচে পড়া ভীড়। জায়গার সল্পতা ও মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারনে গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে গোষ্ঠ মেলা ব্যতীত ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হচ্ছে এই গোষ্ঠ অষ্টমী উৎসব।

মদন গোপাল মন্দির এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক সুধাংশু দেবনাথ জানান, তিথি অনুযায়ী (অষ্টমী তিথি) গোষ্ঠ অষ্টমী দিনে সকালে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের বর্ণিল সাজে রঙ বেরঙের পতাকা হাতে রাখাল (কৃষ্ণ) রাখালী (রুক্কিনী) সাজানো হয়। এরপর রাখালদের একটি র‌্যালিসহ মহারাণী হেমন্ত কুমারী স্মৃতি জড়িত মদন গোপাল আঙিনা থেকে নাটু গোপালকে (সাজানো বালক কৃষ্ণ) সাথে নিয়ে মন্দিরে আসা হয়। মদনগোপাল আঙিনার ওই মন্দির থেকে পরে শ্রীকৃষ্ণকে আরেকটি (কুঞ্জ) মন্দিরে (মধুপুর ক্লাব সংলগ্ন) নিয়ে আসা হয়। রুক্কিনীকে রাখা হয় কুঞ্জ মন্দিরের বিপরীত দিকের আরেকটি মন্দিরে। পরে পূর্ব নির্ধারিত ধানখেতে নিয়ে যাওয়া হয় রাখাল দলকে। ধানখেতে দীর্ঘক্ষণ অবস্থানকালীন খেতের চারিদিক সাত বার প্রদক্ষিণ করে রাখালেরা গরুকে ধান খাওয়াতে শুরু করে। এসময় মায়েরা কেউ পুত্র কামনায় আবার কেউ পুত্র বাৎসল্যে রাখালদের আদর করে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি খাওয়ান। পরে সেখান থেকে মন্দিরে ফিরে রাখালদের মাঝে প্রসাদ বিতরণের মধ্যদিয়ে শেষ হয় দিনের ১ম পর্ব।

মন্দির কমিটির অন্যতম কার্যকরি সদস্য শুভ চৌহান জানান, শ্রীকৃষ্ণ আর রুক্কিনির মধ্যে জাগতিক যে বিয়ে হয়েছিল রাতের পর্বে থাকে রুক্কিনী-শ্রীকৃষ্ণের সেই বিবাহোত্তর মিলন অনুষ্ঠান। রাত ১০টার দিকে মিলন অনুষ্ঠানে আনন্দ আর উল্লাসে মেতে উঠে আবাল বৃদ্ধ বনিতা।

এর আগে সন্ধ্যা থেকে মদন গোপাল বিগ্রহ মন্দিরের ভিতরে দীর্ঘক্ষণ চলে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনা। এরপরই সকালে পৃথক মন্দিরে রেখে আসা নাটু গোপাল রূপী শ্রীকৃষ্ণ ও রুক্কিনীকে মিলন ঘটাতে চলে আনন্দ উল্লাস। একদিক থেকে একদল ঢাক বাদ্যের তালে নাচতে নাচতে নিয়ে আসে কৃষ্ণকে অপর দিক থেকে রুক্কিনী কে। এক ঘন্টার এ উৎসব উল্লাস শেষে মধুপুর পৌর শহরের সাথীর মোড় বটতলা (মিলনতলা) মিলন ঘটানো হয়। হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমবেত হয় এ দৃশ্য দেখতে। যেন সত্যিকারেই রুক্কিনী-কৃষ্ণের বিয়ে ও দুই জনের কাছাকাছি চলে আসা যাকে স্থানীয়রা মিলন বলে অভিহিত করেন।এ উৎসবে যোগ দিতে দূরদূরান্ত থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) ভক্তরা মধুপুরের আত্মীয় বাড়িতে নাইওর আসতেন। পূরবী (উপহার) দেওয়া হতো আগতদের। এখনও সে চর্চা আছে শুধু গোষ্ঠ অষ্টমী উৎসবকে কেন্দ্র করে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মধুপুর পৌর শাখার সভাপতি জয় দে সরকার জানান, এক সময় এ উপলক্ষ্যে মাসব্যাপি মদন গোপাল আঙিনায় মেলা বসতো। মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রা পার্টি, বিখ্যাত রওশন সার্কাস, পুতুল নাচ, যাদুকরদের যাদু খেলা, নাগরদোলা আসতো। সারি বেধে মিষ্টির দোকান, খেলনা দোকান এসবের পসরা নিয়ে বসত। যদিও এখন সে মেলা আর বসে না। হারানো ওই ঐতিহ্য এখন বয়স্কদের কাছে কেবলই স্মৃতি। রূপকথার মতো মনে হয় কিশোর-কিশোরীদের কাছে। অধিকাংশ সনাতনীদের স্বপ্ন, দখলদারদের থাবা থেকে মদন গোপাল আঙিনা মুক্ত করে আবারও এলাকার এ ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীত করার জন্য জোর দাবী জানান তিনি। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মধুপুর পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুদর্সন সিংহ কৃষ্ণ বলেন সনাতনীদের এ স্বপ্নের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, ঐতিহ্যের মধুপুর যেসব কারণে সমৃদ্ধ ছিল তার মধ্যে এ গোষ্ঠ মেলা অন্যতম। এটি আর না হওয়া মানে মধুপুরের গৌরবের পালক থেকে একটি গৌরব খসে পড়া।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

এরকম আরও বার্তা
স্বত্ব © ২০১৫-২০২২ এশিয়ান বার্তা  

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft