1. aknannu1964@gmail.com : AK Nannu : AK Nannu
  2. admin@asianbarta24.com : arifulweb :
  3. angelhome191@gmail.com : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  4. info@asianbarta24.com : Dev Team : Dev Team
রবিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৩, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন

ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের সিএ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলা

  • আপডেট করা হয়েছে : শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০২২
  • ২৮ বার দেখা হয়েছে

শারমিন আশা স্বর্ণা,জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের সিএ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডাকাতি-দস্যুতার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতো বড় একটি ঘটনা জানেন না এলাকাবাসি। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই এই মামলা এমনই অভিযোগ তাদের। স্থানীয় রাজনীতিবিদ, প্রশাসন ও সুশীল সমাজ এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন। বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক প্রকৃত অপরাধীর মুখোশ উন্মোচনের পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও তোলেন তারা। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ মিথ্যে মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করতে না পারে।

জানা যায়, বাদী ফজিলাতুন নেছা ক্ষেতলাল সদরের মেইন রোড সংলগ্ন সেকেন্দার আলীর বাসার নীচ তলাতে ভাড়া থাকেন । সে ও তার স্বামী রবিন উপজেলা ক্যাম্পাসের উত্তর পশ্চিম পার্শ্বে একটি বাড়ী নির্মান করছেন। ওই বাড়ি সংলগ্ন পরিষদের বাসা শ্যামলী ভবনে উপজেলা পরিষদের সিএ শওকত স্ত্রীসহ বসবাস করেন। ওই ভবনের সামনে রবিন তার বাসা নির্মাণের সামগ্রী রাখায় তাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছিলো। তাই রবিন ও তার স্ত্রীকে মালামালগুলো সরিয়ে নিতে বলেন শওকত। এ নিয়ে সে সময় উভয়েই বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পরেন।

এরই জের ধরে ক্ষেতলাল উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের মুহরী আলী মর্তুজা চৌধুরী রবিনের ২য় স্ত্রী তার ক্ষেতলাল বাজারের সদর রাস্তা সংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে নগদ ৪ লক্ষ টাকা ও ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার গহনা ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনে উপজেলা পরিষদের সিএ শওকত, তার স্ত্রীর জুলেখা পারভীন ও ক্ষেতলাল সদরের ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে গত ৬ অক্টোবর জয়পুরহাট চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।

বাদীর স্বামী আলী মর্তুজা চৌধুরী রবিন বলেন, ঘটনার দিন অভিযুক্ত ও তার স্ত্রী মিলে আমার ভাড়া বাসায় এসে স্ত্রীকে মারধর করে নগদ ৪ লক্ষ টাকা ও ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার গহনা ডাকাতি করে নিয়ে যায়। পরে আমি বাসায় গিয়ে আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করি। এতো বড় ডাকাতির ঘটনা অথচ বাসা মালিক ও স্থানীয়রা কেউ বলতে পারছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাসা মালিক কি সব সময় বাসায় থাকেন যে ডাকাতির সময় তিনি ঘটনাটি দেখবেন। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, এই নিউজ আপনাকে কে করতে বলছে, আপনি কি আমাকে চিনেন, এসব নিউজ করবার দরকার নেই।

মামলার বিবাদী উপজেলা পরিষদের সিএ এস এম শওকত বলেন, আমাকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সঠিক তদন্ত পূর্বক এর সুষ্ঠু আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট বিনীত আবেদন করছি।

এ বিষয়ে মামলার বাদির বাসার মালিক সেকেন্দার আলী বলেন, যেহেতু আমার বাসায় আমি নিজেও বসবাস করি সেহেতু আমি জানি এ রকম কোন ঘটনা ঘটেনি। এটা সম্পুর্ণ মিথ্যা কথা।

একই বাসার অপর ভাড়াটিয়া প্যাথলজিস্ট এনামুল হক বলেন, এই বাসায় এরকম কোন ডাকাতি বা দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। রবিন ও তার স্ত্রী মিলে নিরিহ মানুষকে ফাঁসানোর জন্য এ রকম মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন।

একই বাসার ভাড়াটিয়া ক্ষেতলাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আলমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুজ্জাম তালুকদার নাদিম বলেন, ডাকাতির কোন ঘটনা ঘটেনি, তারপরেও রবিন ও তার স্ত্রীর এ রকম একটি মিথ্যে মামলা দায়ের করা উচিত হয়নি।

মামলায় উল্লেখিত বাসা সংলগ্ন ক্ষেতলাল বাজারের বিভিন্ন দোকান মালিক, আত্তাব হোসেন, খায়রুল, জার্যিস সহ অনেকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ক্ষেতলাল বাজারে দিনের বেলা এত বড় কোন ঘটনা ঘটেনি, ঘটলে আমরা নিশ্চয় জানতাম। বাজারে হই হই পড়ে যেতো। এ রকম কোন ঘটনা আদৌ ঘটেনি এসব মিথ্যা।

ক্ষেতলাল বাজারে বসবাসকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, রবিনের ২য় স্ত্রী তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ছিলেন, স্বামী সন্তান রেখে দেবরের সাথে পালিয়ে এসে বিয়ে করেছেন। ওই মহিলা ইতিপূর্বে বিভিন্ন জনের সাথে মামলা মোকর্দ্দমায় জড়িয়েছেন। এর সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার আশা করছি।

ক্ষেতলাল বাজারে বসবাসকারী পৌর মেয়র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার পৌর এলাকার ক্ষেতলাল বাজারে দিনের বেলা এ রকম কোন ডাকাতি বা দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি।

ক্ষেতলাল থানার সদ্য বদলী হওয়া সাবেক অফিসার ইনচার্জ রওশন ইয়াজদানীর সাথে মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি থাকাকালিন কোন ডাকাতি বা দস্যুতার ঘটনা ঘটেনি। এ রকম কোন ঘটনা ঘটলে পুলিশ নিশ্চয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকতো ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতো।

থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল হক বলেন, কোর্ট থেকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে সঠিক প্রতিবেদনই প্রেরণ করবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাকিম মন্ডল বলেন, আমার পরিষদের সিএ এস এম শওকত ওই তারিখে পুরো সময় (সকাল ৮:০০-বিকাল ০৩:টা) অফিসে থেকে আমাকে ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দাপ্তরিক কাজে সহযোগিতা করেছেন।

শারমিন আশা স্বর্ণা
জয়পুরহাট

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

এরকম আরও বার্তা
স্বত্ব © ২০১৫-২০২২ এশিয়ান বার্তা  

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft