1. aknannu1964@gmail.com : AK Nannu : AK Nannu
  2. admin@asianbarta24.com : arifulweb :
  3. angelhome191@gmail.com : Mahbubul Mannan : Mahbubul Mannan
  4. info@asianbarta24.com : Dev Team : Dev Team
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
নাইক্ষ্যংছড়িতে ডিজিএফআই’র কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা নাইক্ষ্যংছড়িতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর বিয়ে ঠেকালো ইউএনও ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণ সমাবেশ নয়াপল্টনেই হবে; মির্জা ফখরুল জীবনের পরম তৃপ্তি আর ভালোবাসায় জড়িয়ে আছে সলঙ্গার প্রিয় নীড়ের তৃতীয় লিঙ্গের বাসিন্দারা রাণীশংকৈলে ২০০ ফুট পতাকা নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মিছিল জয়পুরহাট আইনজীবী সমিতি নির্বাচনে নৃপেন্দ্রনাথ সভাপতি  ও শাহীন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত বঙ্গবন্ধুসেতু পূর্বপাড়ের বাগান থেকে অজ্ঞাত যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মানবিক গুণাবলি বিকাশে লেখকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : লায়ন গনি মিয়া বাবুল গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে বদলি নতুন পুলিশ সুপার মো. কামাল হোসেন গাইবান্ধায় বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের ১ম জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য লাঠিখেলা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে লোসগপ ও খেলোয়াড়েরাঃ আয়োজনকে ঘিরে বসেছে গ্রামীণ মেলা

  • আপডেট করা হয়েছে : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
বিলুপ্তপ্রায় বাঙালির ঐহিত্য-সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ লাঠিখেলা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে লোক সংস্কৃতি গবেষণা পরিষদ নামে একটি সংগঠন ও স্থানীয় খেলোয়াড়েরা। চর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে যখন খেলাটি হারিয়ে যেতে বলেছে এমনই এক ক্রান্তিকালে প্রতি বছরের মতো এবারও হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজার দশমীর তিন দিন পর জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার পশ্চিম দেওগ্রামে আয়োজন করা হয় লাঠিখেলার। খেলা দেখার জন্য সেখানে সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ সমবেত হয়েছেন। স্থানীয়রা ছাড়াও দূর-দূরান্তের আমুদে দর্শকদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলার মাঠজুড়ে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। এ খেলাকে ঘিরে বসেছে একদিনের গ্রামীণ মেলাও।

ঢাক-ঢোল আর কাঁসার ঘণ্টার তালে তালে খেলোয়াররা দুটি পক্ষ হয়ে এ খেলায় লাঠির কসরত প্রদর্শন করেন। চলে উভয় পক্ষের লাঠির আঘাত, পাল্টা আঘাত। এ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে খেলোয়াড়রা। আর তাদের উৎসাহ জোগায় সেখানে উপস্থিত শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ সব বয়সী মানুষরা। এমনিভাবে শতাধিক বছর ধরে এখানে অনুষ্ঠত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। এই খেলাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত মেলায় মেতে ওঠেন গ্রামবাসীরা। নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ।

গ্রামবাসীরা জানান, শতাধিক বছর আগে থেকে এই লাঠি খেলার মেলা চলছে। প্রতি বছর দুর্গাপূজার দশমীর তিনদিন পর এই মেলা বসে। আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের দাওয়াত করা হয়। মেলার দুদিন আগে থেকে আত্মীয়-স্বজনরা গ্রামে আসতে শুরু করে। মেলার দিন সকালে গ্রামে গরু জবাই করা হয়। আজকে মেলার দিন ১৪-১৫টি গরু জবাই করে মাংস ভাগবাটোয়াটা করে নেওয়া হয়েছে। এরপরও গ্রামের অনেকেই হাট বাজারে গিয়ে মাংস কিনে এনেছেন। মেলার দিন দুপুরে প্রতিটি বাড়িতে ধুমধামে খাওয়া দাওয়া হয়। মেলার দিন লাঠিয়ালেরা পাড়ায়-পাড়ায় ঘুরে লাঠি খেলা দেখান। বিকেলে লোকজন মেলায় পুরোদমে কেনা-কাটা করেন। গভীর রাত পর্যন্ত মেলা চলে। তাছাড়া কাল দুপুর পর্যন্তও চলবে এই মেলা।

লাঠি খেলা দেখতে আসা কালাই উপজেলার সড়াইল গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, লাঠি খেলার মেলা উপলক্ষে আমার পুরো পরিবারকে দাওয়াত করা হয়। লাঠি খেলার মেলা আমাকে কিছুক্ষণের জন্য শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

ক্ষেতলাল উপজেলায় দেওগ্রামের বয়োবৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন বলেন, অন্য কোনো উৎসবে জামাই-মেয়ে বা আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত না করলেও সমস্যা থাকে না। কিন্তু পূর্ব পুরুষদের রীতিনীতি অনুযায়ী লাঠি খেলার মেলায় তাদের দাওয়াত দিতেই হবে।

গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি আব্দুল গফুর বলেন, আমার বয়স এখন নব্বই বছর। আমি ছোট থেকেই আমাদের গ্রামে লাঠি খেলার মেলা দেখছি। এ মেলাকে ঘিরে আমাদের গ্রামে উৎসব বিরাজ করে। আত্মীয়-স্বজনেরা আসেন। গ্রামের রীতি অনুযায়ী তাদের খৈ, মুড়ি, নাড়ু ও মাংসভাত অ্যাপায়ন করা হয়।

বৃদ্ধ লাঠিয়াল হাফিজার রহমান বলেন, আমার বাপ-দাদারা লাঠি খেলা করেছে। তাদের কাছ থেকে লাঠি খেলা শিখেছি। আমি ১৯৮০ সাল থেকে লাঠি খেলা করছি। আমাদের লাঠি খেলা দেখে লোকজন আনন্দ পায় তাতে আমরা খুশি হই।

কিশোর লাঠিয়াল স্বাধীন হোসেন বলেন, আমার বাবা লাঠি খেলা করে। আমি তার কাছ থেকে লাঠি খেলা শিখে এখন নিজেই লাঠি খেলা করি। লাঠি খেলা করতে খুব ভালো লাগে।

লাঠি খেলোয়াড় রমিজ মিয়া বলেন, এখন আর আগের মতো খেলোয়াড় পাওয়া যায় না খেলার জন্য। আগের মত বায়না পাওয়া যায় না কোন অনুষ্ঠানে। তাই কোন আয় হচ্ছে না এ খাত থেকে। সে জন্য আমাদের খেলার প্রতি মনোনিবেশ কমে যাচ্ছে। তবে লোক সংস্কৃতি গবেষণা পরিষদ ও দেওগ্রামবাসির উথসাহ অনুপ্রেরণা এখনো জিইয়ে রেখেছে খেলাটিকে।সরকারি-বেসরকারি এবং ব্যক্তি সহযোগিতা পেলে হয়তো ঐতিহ্যবাহী এই লাঠিখেলাটি ধরে রাখা সম্ভব হবে।

দেওগ্রাম লাঠি খেলা মেলা কমিটির সভাপতি ছাইদার রহমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে মেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এ মেলার বয়স অনেক। এবারও মেলা জমজমাট হয়েছে। মেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো।

মামুদপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও দেওগ্রাম পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, এই মেলা একশ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে। মূল মেলা একদিন তবে পরের দিনও দুপুর পর্যন্ত মেলা থেকেই যায়। এই লাঠি খেলাটি যেন গ্রাম থেকে হারিয়ে না যায়, তার জন্য গ্রামের মানুষজন এবং লোক সংস্কৃতি গবেষণা পরিষদের সদস্যরা তাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

লোক সংস্কৃতি গবেষণা পরিষদ জয়পুরহাটের সংগঠক ও লোক গবেষক শফিউল বারী রাসেল বলেন, সত্যি কথা বলতে গেলে আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীকগুলোর কথা আজ যেন রূপকথার গল্পের মতো শোনাতে হয় আমাদের নতুন প্রজন্মকে। আগামী প্রজন্মের কাছে হয়তো এটা স্বপ্নের মতো মনে হবে। তখন ইতিহাসের পাতায় পড়া ছাড়া বাস্তবে খুঁজে পাওয়া দুষ্প্রাপ্য হবে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। নতুবা কোনো জাদুঘরের কোণে ঠাঁই করে নেবে আমাদের অতীত ঐতিহ্য নিজের অস্তিত্বটুকু নিয়ে। এসব হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় প্রয়োজন সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

এরকম আরও বার্তা
স্বত্ব © ২০১৫-২০২২ এশিয়ান বার্তা  

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft